জেনে রাখুন তুলসী কেন সবার বাড়িতে রাখা জরুরি

তুলসী (অর্থ যার তুলনা নেই) 'Ocimum Sanctum' বৈজ্ঞানিক নামের একটি চিরহরিৎ গুল্ম যার মূল কাণ্ড কাষ্ঠল ও ঘন শাখা প্রশাখা বিশিষ্ট এবং এটি অন্যতম প্রধান ঔষুধি গাছ যার পাতা, শিকড় ও বীজ স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী।

জেনে রাখুন তুলসী কেন সবার বাড়িতে রাখা জরুরি
তুলসী গাছ

ঔষধি গাছের মধ্যে অন্যতম বিখ্যাত গাছ হলো তুলসী গাছ। তুলসী অর্থ যার তুলনা নেই এবং এ গাছ একটি সুগন্ধী উদ্ভিদ যেটি লামিয়াসি পরিবারের অন্তর্গত এবং এর বৈজ্ঞানিক নাম 'Ocimum Sanctum' ও ইংরেজি নাম "Holy basil বা tulasi" । আয়ুর্বেদের মধ্যে ব্যবহৃত সব ধরনের গুল্মের মধ্যে তুলসী প্রধানতম একটি এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এখন এর উপকারী প্রভাবগুলি নিশ্চিত করেছেন বিজ্ঞানীরা। সনাতন বা হিন্দু ধর্মে এটি একটি পবিত্র উদ্ভিদ হিসাবে বিখ্যাত। তুলসী গাছের উপকারিতা এত যে তা এর নাম এর অর্থ জানলে বোঝা যায় যার অর্থ তুলনা নেই। এটি সবার বাড়িতে রাখা জরুরি কারন বিজ্ঞানীরা বলেছেন তুলসি গাছের উপকারিতা অনেক। আমরা আমাদের প্রতিদিনের স্বল্প অসুখ-বিসুখ দূর করতে তুলসি ব্যবহার করতে পারি।

তুলসী গাছের উপকারিতা

বাংলাদেশ ও ভারতের প্রায় সর্বত্র এ গাছটি দেখা যায় তবে এখন অস্ট্রেলিয়া, পশ্চিম আফ্রিকা এবং মধ্য প্রাচ্যের কয়েকটি দেশে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এটি হিন্দুবাড়িতে বেশি দেখা যায় কারণ তুলসী পূজায় ব্যবহার হয় ও তারা এটিকে অতি পবিত্র উদ্ভিদ হিসাবে মনে করে। এটি সাধারনত ২/৩ ফুট উঁচু হয়ে থাকে। বিশেষ ঔষধিগুণের এই তুলসী গাছের পাতা, বীজ, বাকল ও শেকড় সবকিছুই অতি প্রয়োজনীয় যা আমাদের বিভিন্ন রোগ সারাতে কাজ করে। এজন্যে আমরা আমাদের বাড়িতে তুলসী গাছ চাষ করতে পারি। 

এই তুলসী চোখের রোগ থেকে শুরু করে দাদ, চুলকানি-পোকামাকড় পর্যন্ত বহু ধরণের রোগের চিকিৎসায় এটি ওষুধ হিসাবে এবং শরীর, মন এবং আত্মার জন্য একটি টনিক হিসাবে বিবেচিত হওয়ার ইতিহাস রয়েছে। 

তুলসীতে প্রচুর পুষ্টি উপাদান রয়েছে যেমন এতে আছে ভিটামিন এ এবং সি, দস্তা, ক্যালসিয়াম, লোহা ও ক্লোরোফিল। এ রাসায়নিক পদার্থগুলি ব্যথা এবং ফোলাভাব (প্রদাহ) হ্রাস করে বলে মনে করা হয় এবং অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থগুলি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তে শর্করাকে হ্রাস করতে পারে। অপরদিকে ক্যান্সারের জন্য পবিত্র তুলসী বীজের তেল খুবই উপকারি হিসেবে মনে করা হয়।

তুলসী পাতার গুণাবলী

তুলসী পাতার গুণাবলী প্রচুর, গাছটি কৃমিনাশক, বায়ুনাশক, হজমকারক ও রুচিবর্ধক হিসেবে বহুল প্রচলিত, এর সকল গুণের মধ্যে রয়েছে- 

  • তুলসী পাতা বাটা খেলে দেহের বিষাক্ত উপাদান দূর হয়ে থাকে।
  • তুলসী পাতার রস দাদ ও অন্যান্য চর্মরোগে ব্যবহার করা হয়।
  • তুলসী পাতা হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়ায় ও এর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।
  • ঠান্ডায় শ্লেষ্মার জন্য নাক বন্ধ হয়ে কোনো গন্ধ নিতে না পারলে সে সময় শুষ্ক পাতা চূর্ণ শুখলে সেরে যায়।
  • পাতার রস কানে দিলে কানের ব্যথা সেরে যায়।
  • প্রস্রাবজনিত জ্বালা যন্ত্রনায় বিশেষ উপকার করে।
  • মুখে বসন্তের বা হামের কাল দাগ থাকলে তুলসীর পাতা বাটা রস মাখলে ঐ দাগ মিলিয়ে যায়।
  • মধু দিয়ে তুলসি পাতার রস খেলে সর্দি প্রবণতা দূর হয় এবং অনেক উপকার হয়।
  • এর ভিটামিন সি ও অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে এবং মানসিক প্রশান্তি দিয়ে থাকে।
  • তুলসী রস খেলে রক্তক্ষয়, রক্ত অর্শ সেরে যায়।
  • এটি হজমকারক হিসেবেও কাজ করে
  • কীট-পতঙ্গ (বোলতা, ভীমরুল, বিছা) কামড়ালে ঐ স্থানে তুলসি পাতা ছেঁচে লাগিয়ে দিলে উপশম হয়।
  • তুলসী পাতা বেটে গায়ে মাখলে ঘামাচি ভাল হয়।
  • রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে।
  • এটি অত্যন্ত ইন্দ্রিয় উত্তেজক হিসেবে পরিচিত।
  • সর্দিতে তুলসী পাতার গুণাবলী অনেক। এর পাতার রসের সঙ্গে অর্ধেক পরিমাণ মধু দিয়ে খেলে সর্দি সেরে যায়।

এ থেকে দেখা যায় তুলসী পাতার গুণাবলী প্রচুর এজন্যে ঘরে ঘরে আমরা শুধু শুকনো তুলসীর বীজ ছড়িয়ে দিলেই তুলসী গাছ চাষ হয়ে যাবে।

অপরদিকে তুলসী গাছের শিকড়ের উপকারিতা রয়েছে যেমন,

  • পাতা ও শিকড়ের বাটা ম্যালেরিয়া জ্বরের জন্য বেশ উপকারী

তুলসী গাছের শিকড়ের উপকারিতার পাশাপাশি এর বীজের উপকারিতা রয়েছে। তুলসীর বীজে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে। এতে প্রচুর ক্যালরি থাকে যার পরিমাণ ধরা হয় এক স্লাইস পনিরের সমান দুই চামচ এ এবং এটি খেলে পুরুষদের বীর্য বৃদ্ধি পায় বলে প্রবীণরা মনে করেন।



এছাড়াও তুলসী গাছের নানা ঔষধি ব্যবহার রয়েছে। তুলসী গাছের উপকারিতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রবীণরা একে "কল্যাণী" নামে আখ্যায়িত করেছেন। তুলসী পাতার, শিকড়ের ও বীজের অনেক স্বাস্থ্য উপকারীতা আছে। তুলসী গাছের উপকারিতা বিবেচনা করে বর্তমানে আমরা বাসাবাড়িতে এটি লাগাতে পারি যেকোনো টবে অথবা বাসার ছাদে।