নিয়মিত হাঁটার ১০ টি উপকারিতা

0
166

হাঁটা যে একটি সুন্দর ব্যায়াম কোনো সন্দেহ নেই । পাশাপাশি এর দ্বারা হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা, শরীরের অঙ্গ সুগঠিত, মস্তিষ্ক সতেজ রাখে, মানসিক চাপ কমায় ইত্যাদি । এছাড়া ও নিয়মিত হাঁটার অনেক উপকারিতা রয়েছে। 

যান্ত্রিকতা, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে আমরা বেশিই অলস সময় পার করি সোস্যাল মিডিয়ায়, গেইমস এ । হাটাচলা, কায়িক শ্রম এর পরিবর্তে স্মার্টফোন, কম্পিউটার নিয়ে সময় পার করি। যেটা আমাদের জন্য ক্ষতির কারন। 

আজ আমরা হাটার কিছু উপকারিতা বিস্তারিত জানবো।

হাঁটার ১০ টি উপকারিতা 

১. ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস- 

ব্রিটিশ জার্নাল অব ক্যান্সার স্টাডিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে নিয়মিত হাঁটলে

খাদ্যনালীর নিম্নাংশের ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ২৫ শতাংশ কমে যায়। বৃহদান্ত্রের ক্যান্সারের আশঙ্কা কমে যায় নিয়মিত হাঁটাচলা করলে।

মন মেজাজ ভালো রাখতে নিয়মিত হাঁটার বিকল্প নেই, নিয়মিত হাঁটাচলা মানসিক চাপ কমাতে বিষন্নতার উপসর্গ হ্রাসে,বোধশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে । এনডফিন, ডোপামিন, সেরোটোনিন নিঃসরণ হয় যার ফলে ভালোলাগার অনুভূতি জাগ্রত হয়, বিষন্নতা কেটে গিয়ে মানসিক সুস্থতা বজায় থাকে। 

সকালের মনোরম পরিবেশে হেঁটে দিনের শুরু করলে শরীরের সতেজতা বজায় থাকে, পাশাপাশি শরীরের মাংসপেশিগুলো অনেক বেশি রিলেক্সডও হয়। নিয়মিত হাঁটাচলা মানসিক চাপ ও টেনশনের প্রবনতা কমে।

 ২. ডায়াবেটিস কমাতে সাহায্য করে – 

যাদের ডায়াবেটিস রোগ আছে তাদের সকাল-সন্ধ্যায় হাঁটা উচিত, সিঁড়ি হেঁটে ওঠানামা করা,গাড়ির ব্যবহার না করে নিয়মিত কাছাকাছি একটু হাঁটা প্রভৃতির মাধ্যমে রোজ অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস বজায় রাখলে ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। 

এতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে চলে আসে কারণ নিয়মিত হাঁটলে রক্তের সুগার কমে ।

৩. উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ-

রক্তচাপ রোধে ওষুধ হচ্ছে হাঁটা। নিয়মিত হাঁটলে সহজেই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়,উচ্চরক্তচাপের সমস্যা খুব একটা দেখা যায়না এবং যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে তা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। সময়ের জন্য যাদের একটানা হাটতে অসুবিধা তারা ১০ মিনিট করে ৩ বার হাটতে পারেন। 

সবচেয়ে বেশি ভাল টানা ৩০ মিনিট একসাথে হাটলে। তাই নিয়ম করে প্রতিদিন হাটার অভ্যাস করা উচিৎ। 

৪. ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ শরীর –

ভিটামিন ডি শরীরে পর্যাপ্ত থাকলে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বেড়ে যায়। আমরা যদি সকালে দিনের আলোতে হাঁটার অভ্যাসের করি তাহলে শরীর সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে ভিটামিন ডি তে। ভিটামিন ডি

বিভিন্ন কোষের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করায় ক্যান্সারে আক্রান্ত কোষ ছড়িয়ে পড়তে পারে না অন্য কোষে।

৫. ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে – 

নিয়মিত হাঁটা চলার মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। শুধুমাত্র ডায়েটিং এর দ্বারা ওজন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়, অলস জীবনযাপন করলে কখনোই ওজন কমানো সম্ভব নয়। স্বাস্থ্যকর খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা চলার মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

৬. হাড়ের ক্ষয়রোগ জয়েন্টে ব্যথার ঝুঁকি কমে- 

হাড়ের ক্ষয় রোগ বা অস্টিওপোরোসিস রোগে হাড় দুর্বল হয়ে যায়, যার ফলে অল্প আঘাতেই হাড় ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। নিয়মিত হাঁটাচলা করলে হাড় ক্ষয়ের প্রবণতা অনেক কমে যায়। 

মহিলাদের বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড় ও সংযোগস্থলের ব্যথা বেড়ে যায়, জয়েন্ট গুলোকে

সুস্থ রাখতে নিয়মিত হাঁটা জরুরী এবং নিয়মিত হাঁটাতে জয়েন্টে ব্যথার ঝুঁকি কমে যায় অনেকটাই।

৭. হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি কমে- 

নিয়মিত হাঁটলে বৃদ্ধি পায় শারীরিক সক্ষমতা, বৃদ্ধি পায় হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা, রক্তে মন্দ কোলেস্টেরল কমে যায়। মন্দ কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে গেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায় কিন্তু নিয়মিত হাঁটলে হাই ডেনসিটি  লাইপো প্রোটিন বা ভালো কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পাওয়ায় হৃদরোগেআক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি কমে যায়। 

হাঁটার সময় শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বৃদ্ধির ফলে হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বাড়ে।

৮. পায়ের শক্তি এবং পেশী শক্তি বৃদ্ধি – 

হাঁটার সময়ে পা চলার সাথে সাথে পায়ের আঙ্গুল, দু’হাত, কোমর এবং শরীর

নড়াচড়া হয়, ঘাড় ও কাঁধের ব্যায়াম হয় যার ফলে পায়ের শক্তি বাড়ার সাথে সাথেই নিয়মিত হাঁটলে ব্যাকপেইনের

সমস্যারও অনেকাংশেই সমাধান হয়।

৯. স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায় – 

বয়স বাড়ার সাথে সাথে দেখা যায় মানুষের ভুলে যাওয়ার প্রবণতা প্রায়শই বেড়ে যায়, ৬০ বয়সের পর প্রবীণ মানুষের মধ্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্মৃতিভ্রম, স্মৃতি হারানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।

নিয়মিত হাঁটাচলা করলে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়, যার ফলে বয়স্কদের মধ্যে ভুলে যাওয়া যে প্রবণতা থাকে তা অনেকাংশেই কমে যায়। 

১০. স্ট্রোকের ঝুঁকি কম –

 যুক্তরাজ্যের স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশনের গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত হাঁটার কারণে উচ্চ

রক্তচাপ জনিত সমস্যা কমে এবং স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমে যায়।হাঁটার কারণে প্রায় শতকরা ৫০ ভাগ স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে যায়।

হাঁটা যে কত উপকার তা আমরা উপরে আলোচনা খুব সহজে বুঝতে পারছি।

কতক্ষন হাঁটতে হবে? 

বেশি ভাগ চিকিৎসকের মতে 30 মিনিট করে প্রতিদিন হাঁটা উচিৎ বলে তারা মনে করে। তবে 5 দিনে 150

মিনিট হাঁটলে হবে বলে অনেক চিকিৎসক মনে করেন। অনেক চিকিৎসক 40 মিনিট বা 1 ঘণ্টা হাঁটতে বলেন তবে এই কথা সবাই এক মত যে 30 মিনিট কম হাঁটলে হাঁটার যে উপকার সেটা পাওয়া যাবে না। 

তবে 30মিনিট হাঁটতে কষ্ট হলে সেটা বিশ্রাম নিয়ে নিয়ে করা যেতে পারে যেমন 10 মিনিট করে হেঁটে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার 10 মিনিট করে হেঁটে 30 মিনিট পূর্ণ করতে পারবে ।

কোন সময় হাঁটা উঠিৎ না 

তবে কিছু সময় আছে যেমন দুপুর বেলা এবং ভরা পেটে হাঁটা উঠিৎ না । আর হাঁটা সঠিক সময় হচ্ছে বিকাল বেলা এই কথায় সবাই এক মত । তবে সকালে হাঁটা দিয়ে দিন শুরু করলে দিন বরকতময় মনে হয়। 

হাঁটা গতি কেমন হওয়া উচিৎ

আমরা সব বুঝতে পারলাম হাঁটা কেন উঠিত হাঁটা চলা করলে কি হয় কোন সময় হাঁটা চলা করা ভালো তবে হাঁটার গতি কেমন হবে সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। চিকিৎসকরা মনে করেন খুব জোরে নয় আবার খুব আস্তে নয় এমন ভাবে হাঁটা ।

পরিশেষে , মানসিক এবং শারিরীক সুস্থ শরীর এর জন্য হাটার খুব কমই বিকল্প আছে। কারন সবার পক্ষে কায়িক শ্রম বা ব্যায়াম করা সহজ না। এজন্য অন্যান্য কার্যক্রম এর পাশাপাশি আমাদের প্রতিদিন ৩০ মিনিট বা ১ ঘন্টা হাটার অভ্যাস করা উচিৎ। আশা করা যায় ইন শা আল্লহ এর দ্বারা আপনারা যথেষ্ট উপকৃত হবেন।

একটি কমেন্ট করুনঃ

Please enter your comment!
Please enter your name here