সাজেক যাবেন কি? মেঘের মেলার রাজ্য সাজেক ভ্যালি

সাজেক ভ্যালি (Sajek Valley) মেঘের রাজ্য নামের একটি বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র যার সৌন্দর্য অতুলনীয়, উপযুক্ত সময়ে, স্বল্প খরচে আপনি চাইলেই সাজেক ভ্যালি ভ্রমণ করতে পারবেন।

সাজেক যাবেন কি? মেঘের মেলার রাজ্য সাজেক ভ্যালি

সাজেক ভ্যালি (Sajek Valley) বাংলাদেশের অন্যতম একটি বিখ্যাত পর্যটন স্থল। এর আরেকনাম সাজেক উপত্যকা বা মেঘের রাজ্য, এবং এটাকে রাঙামাটির ছাদও বলা হয়। এটি আমাদের বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলার সর্বউত্তরের মিজোরাম সীমান্তে অবস্থিত এবং সাজেক ইউনিয়নের বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তর্গত। এটি বাংলাদেশের মধ্যে ৭০২ বর্গমাইল আয়তনের একটি বড় ইউনিয়ন এবং যার উচ্চতা ১৮০০ ফুট সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে। সাজেক ভ্যালি ভ্রমণ

এর জন্য সবথেকে জনপ্রিয় গন্তব্যস্থল। যদিও সাজেক রাঙামাটি জেলার তবুও ভৌগলিক কারণে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে সাজেক ভ্যালি ভ্রমন সহজ। সাজেক ভ্যালির রয়েছে দুটি পাড়া একটি রুইলুই ও অপরটি কংলাক নামে আখ্যায়িত এবং এর মধ্যে কংলাক বেশি জনপ্রিয়। 

 

সাজেক ভ্যালির সৌন্দর্য

সাজেক ভ্যালির সৌন্দর্যের প্রধান কারণ হলো পাহাড় আর সবুজে শ্যামলে ভরপুর এবং সবখানে মেঘের মেলা দেখা যায় এজন্য এর নাম মেঘের রাজ্য। সাজেকের সর্বোচ্চ চূড়া কংলাক থেকে সেখানের সকল বড় বড় পাহাড় এবং সেখানে বসবাসকারী আদিবাসীদের জীবনযাপন দেখা যায়। এখানে সর্বক্ষণ মেঘের চলাচল উপভোগ করা যায়। এখানে অনেকগুলো মনোরম দৃশ্যের ঝর্না, হৃদ, ব্রিজ এবং দীঘি রয়েছে। সবুজ মনোরম পাহাড় সারির সাদা তুলোর মতো সবসময় মেঘের আনাগোনা দেখা যায় যা দেখলে আপনি মুগ্ধ হয়ে যাবেন। হঠাৎ আপনি বৃষ্টিতে ভিজে যেতে পারেন অথবা চোখের পলকেই চারপাশে মেঘের ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যেতে পারেন অথবা অনেক গরম লাগতে পারে যা আপনাকে এক অদ্ভুত অনুভূতি প্রদান করবে। কংলাক পাহাড় সবথেকে বেশি উচ্চতার এবং সুন্দর হওয়ায় সবার প্রধান আকর্ষণ থাকে এর উপর। 

দিন বা রাত যেটাই হোক না কেন মনে হবে সাজেক যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা এক ছবি যার সৌন্দর্যের যেনো শেষ নেই। সকালে সূর্যোদয়ের অপরূপ আলোর ও মেঘের মেলা হয়। আর সন্ধ্যার সময় সূর্যাস্তের রংয়ের মেলা দেখা যায় আকাশে যা আপনাকে বিমোহিত করবে এবং প্রাণ জুড়িয়ে যাবে। অপরদিকে সন্ধ্যার পর দেখতে পাবেন লক্ষ তারার মেলা যা আপনার মনকে ভরিয়ে দিবে। 

 

সাজেক ভ্যালির ইতিহাস

সাজেক ভ্যালির ইতিহাস রয়েছে অনেক তবে এটি বর্তমানে তিনটি পাড়া নিয়ে গঠিত যেমন, হামারিপাড়া, রুইলুইপাড়া ও কংলাক পাড়া। এই রুইলুইপাড়া প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৮৫ সালে এবং যার উচ্চতা ১,৭২০ ফুট যেটা কংলাক পাড়া থেকে কম। এখানে বেশিরভাগ উপজাতির মধ্যে ত্রিপুরা, লুসাই ও পাংখোয়া বেশি দেখা যায়। সাজেক নামকরণের ইতিহাসে প্রকৃতপক্ষে এ নামটি এসেছে সাজেক নদী থেকে যার উৎপত্তি কর্ণফুলী নদী থেকে। বর্তমানে সাজেকে বাংলাদেশের বিজিবি ক্যাম্প স্থাপিত হয়েছে। কারণ ভৌগলিক অবস্থান থেকে এর পূর্বে ভারতের মিজোরাম, উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, দক্ষিণে রাঙামাটির লংগদু ও পশ্চিমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা রয়েছে। সাজেক থেকে খাগড়াছড়ি জেলা প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

 

সাজেক ভ্রমণের উপযুক্ত সময়

আপনি চাইলে সারা বছরেই সাজেক ভ্যালি ভ্রমণ করতে পারবেন কিন্তূ শুধু মাত্র ভরা বর্ষায় ও প্রচুর গরমে না যাওয়ায় ভালো কারণ বর্ষায় সেখানকার রাস্তা নষ্ট বা পাহাড়ি ধ্বস নামতে পারে। এজন্যে আপনি বর্ষার শেষে এবং শীতের আগে এই সময়ে যেতে পারেন এতে আপনি সবদিক থেকে উপকৃত হবেন।

 

সাজেক ভ্যালি ভ্রমন খরচ ও বৃত্তান্ত

প্রকৃতপক্ষে খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা থেকে  সাজেক যাতায়াত অনেক সহজ হওয়ায় আপনি প্রথমে ঢাকা থেকে সৌদিয়া, শান্তি পরিবহন, এস আলম, ঈগল অথবা যেকোনো বাসে করে খাগড়াছড়ি যাবেন। আর ভাড়ার ক্ষেত্রে নন এসি ৫২০ টাকা এবং এসি বাসে ৭০০ টাকা ভাড়ায় যেতে পারবেন। সাজেক থেকে খাগড়াছড়ি এর দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার হওয়ায় প্রথমে শহর থেকে যেকোনো জীপগাড়ি বা চাঁন্দের গাড়ি ভাড়া করে নিবেন। তবে সিএনজি দিয়েও সাজেক যেতে পারবেন কিন্তু এটি একটু বিপদজনক। যদি আপনি দুইদিনের জন্য যান তবে মোট ভাড়া হিসেবে ৮,০০০-১০,০০০ টাকা নিবেন। 

আর সেখানে আপনি থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা পেয়ে যাবেন।

 

মেঘের মেলার রাজ্য সাজেক ভ্যালি ভ্রমন করতে পারবেন যে কেউ যা আপনাকে দিবে অতুলনীয় আনন্দ এবং প্রশান্তি। তাই সাজেক ভ্যালি ভ্রমন করতে চাইলে এখনি করে ফেলুন।